বাংলাদেশি পণ্যের ব্র্যান্ডিং করা দরকার

অর্থনীতি খবর Dec 16, 2017 550 Views
Googleplus Pint

টপট্রিকবিডি : স্বাধীনতার পর গত ৪৬ বছরে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

তানিয়া ওয়াহাব: আমি স্বাধীনতাযুদ্ধ দেখিনি। তাই যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের কথা বলতে পারব না। তবে সাম্প্রতিক সময়ের পরিবর্তন নিয়ে বলতে পারি। দেশ অনেক এগিয়েছে। মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়ছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই পড়াশোনা শেষ করে ব্যবসায় আসছেন। আগে দেখা যেত, ব্যবসায়িক পরিবারের ছেলেমেয়ে কেবল ব্যবসায় আসতেন। তবে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের কারণে ব্যবসার অনেক বন্ধ দুয়ার খুলে গেছে। গ্রামের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও প্রত্যন্ত এলাকায় বসেই পণ্য বিক্রি করতে পারছেন। অবশ্য অনেক ইতিবাচক পরিবর্তনের মধ্যেও সরকারি দপ্তরগুলোতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়ে গেছে। ঘুষ ছাড়া অনেক দপ্তরেই কাজ করানো যায় না। গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর নিয়েও জটিলতা আছে। এসব সমস্যার সমাধান করা গেলে দেশের অর্থনীতি আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

টপট্রিকবিডি : আপনি বললেন, দেশের নতুন প্রজন্ম ব্যবসায় আগ্রহী হচ্ছে। তারা কোন কোন জায়গায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে?

তানিয়া ওয়াহাব: আমার কাছে মনে হয়, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বাজার ধরাটাই সবচেয়ে কঠিন কাজ। এ জন্য বিদেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে তরুণদের অল্প খরচে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে সরকার। সেটি হলে বিদেশের ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের গুণমান উন্নয়ন করতে পারবেন তরুণ উদ্যোক্তারা। এ ছাড়া দেশের বড় বড় শিল্পগোষ্ঠী তরুণের সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারে। তারা নতুন উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের ব্র্যান্ডিংয়ের দায়িত্ব নিতে পারে। বর্তমানে অনেক তরুণ তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায় আসছেন। তবে ইন্টারনেটের দাম অনেক বেশি হওয়ায় সেখানে তাঁরা বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই ইন্টারনেটের দাম কমানোর বিষয়ে নজর দেওয়া দরকার।

টপট্রিকবিডি : বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর মোট জাতীয় উৎপাদনে শিল্প খাতের অবদান ছিল ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদনে শিল্প খাতের অবদান প্রায় ২৮ শতাংশ। দেশের শিল্প খাতের আরও প্রসার ঘটাতে কোন জায়গাগুলোতে বেশি নজর দেওয়া দরকার?

তানিয়া ওয়াহাব: দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেক প্রসার ঘটেছে, অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে সেটিকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বলা যাবে না। আমার মনে হয়, বর্তমানে পণ্য বৈচিত্র্যকরণসহ এসএমই খাতের উন্নয়নে ব্যাপকভাবে নজর দিতে হবে। আজকের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানই একদিন বৃহৎ শিল্প হবে। দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে। ব্যবসায়ীদের অনেকেই আছেন, যাঁরা কিনা পুরোনোকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চান। কিন্তু এগিয়ে যেতে হলে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটাতে হবে। বর্তমানে অনেক ধরনের পণ্য উৎপাদন করে দেশের চাহিদা মেটাচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান। রপ্তানিকারকেরা বিভিন্ন সুবিধা পেলেও দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে নিয়োজিত এসব প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের প্রণোদন পাচ্ছে না। সেটি নিশ্চিত করতে সরকারের সদিচ্ছা দরকার। তা ছাড়া দেশের বিভিন্ন জায়গায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে সরকার। সেখানে যাতে সম্ভাবনাময় ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান জায়গা পায়, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে সম্ভাবনাময় খাতের জন্য আলাদা পরিকল্পিত অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে হবে। যেখানে পশ্চাৎমুখী সব ধরনের শিল্পকারখানা পাশাপাশি থাকবে। পরিবেশ সুরক্ষার দিকটাও বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো হেমায়েতপুরের পরিকল্পিত শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করা হয়েছে। কিন্তু সেখানেও নদীদূষণ হচ্ছে। এটি অব্যাহত থাকলে বিদেশি ক্রেতারা আমাদের পণ্য কিনবেন না। অনেক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পর্যটন খাতে আমরা খুব একটা এগোতে পারি নাই। পরিকল্পনা করে পুরো পর্যটন খাতকে ঢেলে সাজানো গেলে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যাবে।

টপট্রিকবিডি : বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার তৈরিতে কী করা দরকার?

তানিয়া ওয়াহাব: বিশ্বের অনেক দেশের মানুষের কাছেই বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা আছে। অনেকেই মনে করেন, বাংলাদেশ মানেই বন্যা। সে জন্য আমরা অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ি। তাই বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি পণ্যের ব্র্যান্ডিং দরকার। তবেই দেশের অর্থনীতি লাভবান হবে।

Rate this post

BB Links

  • Link :
  • Link+title :
  • HTML Link:
  • BBcode Link:
Googleplus Pint
Tomarwap
Administrator

পাঠকের মন্তব্য